অধ্যক্ষ মো: আসলাম উদ্দীন, ভেড়ামারা বিজেএম ডিগ্রী কলেজ :
আজকের এ লেখাটি স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি (বীর উত্তম) বাংলাদেশ প্রতিদিনের লেখা দিয়েই শুরু করতে চাই। “কিছু দিন হলো বিএনপি বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। পরপর বেশ কয়েকটি বিভাগীয় সমাবেশে প্রচুর লোক হওয়ায় আনন্দিত হবারই কথা। কিন্তু সমাবেশে প্রচুর লোক হওয়ায় এটা প্রমাণকরে না যে, দেশবাসী সবাই আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে চলে এসেছে। তবে বিএনপির এসমস্ত কর্মকান্ড সবসময় চালু থাকলে এবং নিজেদের শৃঙ্খলা বজায় রাখলে দেশে এত অরাজকতা হতো না। সরকারের খামখেয়ালী, সাধারণ মানুষের প্রতি কারো কোন ভ্রুক্ষেপ না করা এর জন্য বারআনা বিএনপি দায়ী। অন্যরা কে কী বলবেন জানি না। নিজের অজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বালুর বাধ দিয়ে যেমন ভয়াবহ বন্যা ঠেকানো যায় না তেমনি গাড়ি ঘোড়া বন্ধ করে রাস্তাঘাটে বাঁধা দিয়ে লাঠিসোটা দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মারধর করে সত্যিকারের কোন দাবি দমায়ে রাখা যায় না। আমরা এক সময় ছাত্রলীগ করেছি, মানুষের কাছে সম্মান পেয়েছি। কিন্তু এখন? ছাত্রলীগ মানুষের দোয়া পায় না, ভালোবাসা পায়না। আমরা ছাত্রবস্থায় পয়সা উপার্জন কি জানতাম না, বুঝতাম না। এখন পদ বেচাকেনা হয়। ছাত্রলীগের নেতা নেত্রীদের সম্মান নাই। সবাই যেন কেমন বেপোরয়া। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের চরিত্র স্থলন দেখে বড় মর্মাহত।”
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি যথার্থই বলেছেন, বালুর বাঁধ, গাড়িঘোড়া বন্ধ, লাঠিসোটা দেখানো, বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মারধর করে কোন যৌক্তিক আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখা যায় না। এর আগে ছাত্রদলের ছেলেরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে যাওয়ার পথে এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ফুলের ডালা এবং মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে সাক্ষাত করতে যাবার পথে বিভিন্ন অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বেধরক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে স্থানত্যাগ করে। তারা সারাদেশে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস, প্রতিপক্ষ সংগঠনের প্রোগ্রাম করতে না দেয়া, মেয়েদেরকে উত্যক্ত করা, তাদের সম্মান দিতে দেরি হলে বিশেষ রুমে নিয়ে টর্চার, হলের সিট বাণিজ্য যা রীতিমতো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে রেখেছে। কিছুদিন হলো ভোলা, নারায়নগঞ্জ দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করতে যেয়ে শাওন, রহিম, শাওন প্রধানসহ পাঁচজনকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। যেখানেই প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে সেখানেই আন্দোলন বেগবান হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানবিরোধী শক্তি বিএনপি বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করে চলেছে। ইতোমধ্যেই ছয়টি সমাবেশ সকল বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকাতে জনসমাবেশের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষিত হবে। সমাবেশ গুলোর বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পেপার পড়ে যতটুকু জেনেছি প্রতিটা সমাবেশের দিন এবং আগের দিন পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। সমাবেশে যেতে ছাত্রলীগ কর্তৃক পদে পদে মারধর, রিকশা, ভ্যান অটোবাইক, লঞ্চ স্টিমার এমনকি খেয়া নৌকা পর্যন্ত বন্ধ করে প্রোগ্রামের লোক সমাবেশ বন্ধ করতে চেয়েছিল। এসব জায়গায় দেশের মানুষ বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে সমাবেশকে শতভাগ সফল করেছে। যা দেশের মানুষ বিভিন্ন চ্যানেলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো পরিবহন ধর্মঘট, আবাসিক/খাওয়ার হোটেল বন্ধ এমনকি পানি পর্যন্ত বন্ধ থাকায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শুকনা খাবার, চিড়া-মুড়ি, গুড় পানির বোতল নিয়ে আশেপাশের জেলা থেকে ৩০-৪০ কিলো পায়ে হেঁটে, পানি সাতরে বা কলাগাছের মাড়ে চড়ে ২/৩ দিন পূর্বেই সমাবেশ স্থল পরিপূর্ণ করে রেখেছিল। তারা ২/৩ দিন শুকনা খাওয়ার খেয়ে প্যান্ডেল স্থলে জায়গা না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করে সমাবেশ কে ধর্মঘট অবরোধ সত্বেও জনসমুদ্রে পরিণত করেছে। এবিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের হেডলাইন হওয়া উচিত শুধু মাত্র সমাবেশের দিনের। কিন্তু আমরা দেখলাম সমাবেশের তিনদিন পূর্ব থেকেই পত্রিকার হেডলাইন যেমন, “সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশের দুই দিন আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ”,“ পায়ে হেটে শুকনা খাওয়ার নিয়ে সমাবেশের আগের দিনই লোকে লোকারণ্য”, “আশে পাশের জেলা থেকে ৩০-৪০ কিলো রাস্তা পায়ে হেঁটে সমাবেশের একদিন বাঁকি থাকলেও জনতার ঢল”পায়ে হেঁটে, সাঁতার কেটে, মাড়ে চড়ে, ড্রামদিয়ে অস্থায়ী নৌকা বানিয়ে জনগণকে সমাবেশে আসতে দেখা যায়” ইত্যাদি। অতএব বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর “বালুর বাঁধ দিয়ে ভয়াবহ বন্যা ঠেকানো যায় না কথাটি যথার্থই। সমাবেশের নিউজ যেভাবে পত্রিকায় এসেছে- বড় বাধা ঠেলে খুলনায় বিশাল সমাবেশ”, “বাধার পাহাড় ঠেলে বরিশালে সমাবেশ”,“বাধার মুখেও রংপুর বড় সমাবেশ” ইত্যাদি।
সংগ্রাম করে, জিহাদ করে, জীবনকে বাজী রেখে যারা বিভাগীয় সমাবেশে এসেছিলেন তাদেরকে কি টুস করে পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলা যায়? তারা কষ্ট করে এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুনে, সারাদেশের লক্ষ, লক্ষ নেতা কর্মীদের সাথে মিলন-মেলায় তারা উজ্জীবিত হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েছে । সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হলো যে কোন সংগঠনকে জনপ্রিয় করে তোলার একমাত্র হাতিয়ার জনগণের প্রয়োজনে, জনগণের কল্যানে, জনগণের বিপদে দলীয় কর্মী হিসেবে তাদের পাশে দাড়ানো। দলকে জনপ্রিয় করতে এর বিকল্প আছে বলে আমি মনে করি না। অথচ বর্তমান সরকার তা না করে দমন-পীড়ন, জ্বালাও-পোড়াও, হামলা-মামলা, খুন-গুম করে বিরোধীদের দমন করে দলীয় প্রভাব বিস্তার করতে চায়। যেটা সাময়িক প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদী এর ফলাফল বিপদজনক। যারা একাজ গুলো করে তারা শুধু দেশকেই নই তারা তাদের দলকেও বিপদজনক পরিস্থিতির মধ্যে নিমজ্জিত করে। এর মাধ্যমে বিরোধী দলকে তো দমন করা যায়ই না বরং এর মাধ্যমে নিজেরাই দমন হয়ে যায়। ভাবতে হবে জনগণের শক্তি বড় শক্তি, জানতে হবে আল্লাহর মার দুনিয়ার বার।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি পুরাতন ঐতিহ্যবাহীদল। এদের আছে অনেক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস। এদের দলে অনেক ঝানু রাজনীতিবীদ আছে। আছে অনেক মেধাবী কর্মী। তারা দলের প্রধানকে বা সরকার প্রধানকে এ কঠিন সত্যটি বলে না, নাকি বলার মত সাহস তাদের নেই। নাকি তারা ভাবে এ কঠিন সত্য কথাটি বললে, তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তারা প্রশাসন যন্ত্রকে, পুলিশ বাহিনীকে, আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীকে, দলীয় কর্মী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে জবরদস্তি করে দিনের ভোট রাতে করে এমপি হয়ে সরকার গঠন করে মজাছে বাণিজ্য করবে, আইন অমান্যের নীতি প্রতিষ্ঠা করবে, টাকা পাচার করবে, টাকা পাচার করে বেগমপাড়ায় বাড়ি করবে, সর্বোপরি কতৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাবে। আর যে বা যারা এটাকে সমর্থন করে তাদের আর যায় হোক রাজনীতিবীদ বলা যাবে না। তারা রাজনীতির কলঙ্ক। রাজনীতর সংজ্ঞা যদি হয় জনগনের কল্যান, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো, দেশ ও জাতির কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত করা, সর্বোপরি সংবিধানের প্রধান পিলার অর্থাৎ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, তাহলে আমি বলব এ সরকার পুরোটায় ব্যার্থ। আর যদি রাজনীতির অর্থ হয় যেনতেনভাবে সরকারে যাওয়া, যেনতেনভাবে নির্বাচনরে নামে তামাশা করা, নির্বাচনের নামে জনগণকে বোকা বানানো, রাজনীতির নামে নিশিরাতে ভোট করে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বাসনা তাহলে এই সরকার পুরোটাই সফল। এখন রাজনীতিবীদদের বেছে নিতে হবে তারা কোন দিকে যাবেন। জনগণের দেশ ও জাতীর কল্যাণ করে স্থায়ীভাবে রাজনীতি করবেন? নাকি রাজনীতির নামে বাণিজ্য করে বেগম পাড়ায় বাড়ির মালিক হবেন?
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকির ভাষায় সেই সময় রাজনীতির সুন্দর পরিবেশ ছিল। ছাত্রলীগের ছেলেদের মানুষ সম্মান করতো, মানুষ ভালবাসতো। যেটা আজ অনুপস্থিত। অবৈধ পথে টাকা উপার্জন করতে হবে সেই সময় এটা ভাবা যায়নি। এক সময় ছাত্র নেতাদের যে চরিত্র ছিল যা এখন ধস নেমেছে। এখন চরিত্র হননের কারবার চলছে। আমি (লেখক) নিজেও একসময় সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতি করতাম। আমার মধ্যে শরিষা দানার পরিমাণও যদি চরিত্র থেকে থাকে সেটা রাজনীতি করার কারণেই। তখন আমাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান ছিল এরশাদের পতন এবং কঠিন উন্নত চরিত্র গঠন। এমনটাই চিন্তা ছিল। বাবার পাঠানো টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা খরচ করে আমরা রাজনীতি করতাম। সেই সময় মাঝে-মধ্যে আমাদের নেতারা আমাদের নিয়ে বসতেন। রাজনীতি করতে হলে, সুন্দর বক্তব্য রাখতে হলে রাজনীতির উপরে গভীর জ্ঞানলাভ করতে হবে যেটা তাদের নিকট থেকে শেখা। জবর দখল করে নয় চরিত্র দিয়েই মানুষের মন জয় করতে হবে করতে হবে সংগঠনকে শক্তিশালী যে কথাটা সব সময় রিজভী আহমেদ বলতেন। এখনকার শাসক দলের নেতারাও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয় তবে সেটা বোধ হয় অন্য বিষয়ে । তাই বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র নেতাদের বলব রাজনীতিই একমাত্র মহৎ পেশা। এ পেশার মাধ্যমে যত সেবা দেয়া যায় অন্য পেশায় ততটা সম্ভব নয়। তাই সত্যিকার অর্থে ভবিষ্যতে রাজনীতিবীদ হিসেবে নিজেকে তৈরির স্বপ্ন থাকলে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে এবং মেধা ও চরিত্র নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এর বিকল্প নেই। ইতোপূর্বে আমারা দেখেছি বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরারের হত্যাকারী ছাত্রলীগের ২৫ জন, দর্জি বিশ^জিতের হত্যাকারী জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রায় ১৫ জন, সিলেটের খাদিজা বেগম নার্গিসকে হত্যা চেষ্টার অপরাধে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক বদরুল আলম সহ আরো অনেকেই ফাঁসি বা বিভিন্ন দন্ড মাথায় নিয়ে জেলের ভিতর অন্ধকার প্রকোষ্টে বসে মুখে দাড়ি আর হাতে তজবী নিয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে যাচ্ছেন সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে। আর তাদের বাবা-মা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে সমাজ থেকে মুখ লুকিয়ে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের মাধ্যমে কোন রকম বেঁচে আছে। এদিকে তাদের দলের যারা বাইরে আছে তারা খুন, মারামারি, এবং অনৈতিক এমন কোন কাজ নাই যা তারা করছে না। এরা যদি তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই সংশোধন হয়ে না যায় তাহলে তাদের ভাগ্য এদেরকেও বহন করতে হবে। তারা যে অপরাধ করেছিল কার নির্দেশে করেছিল? তাদের বাবা-মায়ের নির্দেশে? নাকি দলের মুরব্বীদের নির্দেশে? অকৃত্রিম ভালবাসার মানুষ বাবা-মা ব্যতীত কেউ আজ তাদের খোজ রাখে না। দলের মুরব্বীরা না সহপাঠি বন্ধুরা। দলের কাছে আজ তার মৃত ঘোড়া। তারা আজ বলির পাঠা।
বর্তমান প্রজন্মের আমার প্রিয় মেধাবী সন্তান তোমাদের বলব। তোমরা রাজনীতি করবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে। মানুষকে ভালবেসে, জাতীকে অনেক কিছু দেব এমন মানসিকতা নিয়ে। চলার পথে দর্শন, ভালবাসা নিয়েই এগিয়ে যাবে। দর্শন, আদর্শ ভালোবাসায় বিভক্তি থাকতেই পারে এমন বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। সব সময় মনে রাখতে হবে রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে। এক্ষেত্রে তোমাদের একমাত্র অস্ত্র হবে মেধা। তবেই তোমরা সমগ্র জাতিকে সেবা করার যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে। শেষ করব এভাবে- অন্যের কল্যানের মধ্যেই নিজের কল্যাণ নিহিত। এ বিশ্বাস থাকলেই, তুমি একজন স্বার্থক রাজনীতিবীদ।